Chattogram Songlap
সেই এসিল্যান্ডকে মনে করিয়ে দিলেন এই ইউএনও

সেই এসিল্যান্ডকে মনে করিয়ে দিলেন এই ইউএনও

চট্টগ্রাম সংলাপ ডেস্ক: করোনাকালে নানা মানবিক উদ্যোগের কারণে প্রশাসনের বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা বেশ প্রশংসিত হয়েছেন। চট্টগ্রামের হাটহাজারীর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুহুল আমিন তাদের একজন। আবার এমন কর্মকর্তাও আছেন, যাদের কাজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উঠে এসেছে বেশ নেতিবাচকভাবে। নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ইউএনও আরিফা জহুরা সে তালিকায় সাম্প্রতিক সংযোজন।

আরিফা জহুরার সাম্প্রতিক ঘটনাটি মনে করিয়ে দেয় এক বছর আগে, যশোরের মনিরামপুর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাইয়েমা হাসানকে নিয়ে আলোড়ন তোলা আরেকটি ঘটনা। আরিফা জহুরা আর্থিকভাবে অস্বচ্ছল এক বৃদ্ধকে বড় অংকের জরিমানা করে আলোচনায় আসেন। অন্যদিকে সাইয়েমা হাসান দেশজুড়ে সমালোচনায় পড়েন দুই বৃদ্ধকে কান ধরে ওঠবস করিয়ে।

ফিরে দেখা : মার্চ ২০২০

গত বছরের মার্চে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ছবি ভাইরাল হয়ে আলোড়ন তোলে। ছবিটিতে দেখা যায়, প্রশাসনের একজন সহকারী কমিশনার বয়স্ক দুই ব্যক্তিকে কান ধরে ওঠবস করাচ্ছেন। পেছনে দুই পুলিশ সদস্য ও আরও একাধিক ব্যক্তি। তিনি নিজেই আবার ওই ঘটনার ছবি তুলছেন।

যশোরের মনিরামপুর উপজেলার চিনেটোলা বাজারে এ ঘটনা ঘটে। যে সহকারী কমিশনার (ভূমি) এই ঘটনা ঘটিয়েছেন, তার নাম সাইয়েমা হাসান।

বিসিএস পরীক্ষায় চতুর্থ হয়েছিলেন সাইয়েমা। কিছুদিন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতাও করেছেন। বাড়ি রাজশাহীতে।

করোনাভাইরাস রোধে চলাচল সীমিত রাখার সরকারি আদেশ পালন করতে গিয়ে তিনি দুই বৃদ্ধ ভ্যানচালককে কান ধরে ওঠবস করান। স্থিরচিত্র ছাড়াও তার অভিযানের আরেকটি ভিডিও পাওয়া গেছে। ওই ভিডিওতেও তাকে কাঁচাবাজারে ঢুকে এক ব্যক্তিকে কান ধরে ওঠবস করাতে দেখা যায়। পরে তাকে তার দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

এবং সাম্প্রতিক

সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জে জাতীয় হটলাইন ৩৩৩ কল করে খাদ্য সহায়তা চান ফরিদ আহমেদ। স্থানীয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরিফা জহুরা খাদ্য সহায়তা দিতে গিয়ে জানতে পারেন ফরিদ আহমেদ চারতলা ভবনের মালিক। এজন্য তিনি সরকারি কাজে ব্যাঘাত ঘটনোর দায়ে ফরিদ আহমেদকে ১০০ প্যাকেট খাবার গরিব মানুষের মধ্যে বিতরণ করার জন্য নির্দেশ দেন।

পরে জেল থেকে বাঁচতে স্ত্রীর স্বর্ণ বন্ধক রেখে এবং চড়া সুদে ঋণ করে ১০০ প্যাকেট খাবার প্রস্তুত করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে তুলে দেন তিনি। গত শনিবার ইউএনও আরিফা জহুরা উপস্থিত হয়ে আর্থিকভাবে অস্বচ্ছল মানুষের মধ্যে এসব খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করেন।

কিন্তু পরে জানা যায়, ফরিদ ওই বাড়ির একক মালিক নন। তিনি মাত্র তিনটি রুমের মালিক। করোনা পরিস্থিতিতে আট হাজার টাকা বেতনের ছোট একটি চাকরি করে দিনযাপন করছিলেন। তার একটি প্রতিবন্ধী সন্তান রয়েছে।

এদিকে জাতীয় হটলাইন ৩৩৩ কল করে খাদ্য সহায়তা চেয়ে উল্টো শাস্তি পেলেন ফরিদ আহমেদ– এমন সংবাদ অনলাইন, প্রিন্ট ও ইলেট্রনিক মিডিয়ায় প্রচার হলে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার মুখে পড়ে স্থানীয় উপজেলা প্রশাসন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি ভাইরাল হয়। উপজেলা প্রশাসনের ভুলের কারণেই ফরিদ আহমেদকে ১০০ প্যাকেট খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করতে হয়েছে বলে অনেকে মন্তব্য করেন।

গণমাধ্যমে সংবাদ প্রচার হওয়ার পর নড়েচড়ে বসে জেলা প্রশাসন। নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে ফরিদ আহমেদের খাদ্য বিতরণ করতে যে টাকা খরচ হয়েছে তা প্রদানের নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে এ ঘটনার প্রকৃত কারণ খুঁজে বের করতে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক শামীম বেপারিকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেন।

এ ব্যাপারে ফরিদ আহমেদের স্ত্রী হিরন বেগম দাবি করেন, আমার স্বামী গুছিয়ে কথা বলতে পারেনি। তাই উপজেলা প্রশাসন ভুল বুঝে তাকে শাস্তি দিয়েছে। এই শাস্তির খাবার বিতরণ করতে গিয়ে আমাকে স্বর্ণ বন্ধক রাখতে হয়েছে, চড়া সুদে ঋণ নিতে হয়েছে।

অপরদিকে ফরিদ আহমেদকে আর্থিক সহায়তা প্রদানকারী ব্যবসায়ী শাহনুর মিয়া গণমাধ্যমকে বলেন, প্রশাসনের অনুরোধ আমি ব্যক্তিগত তহবিল থেকে ৬০ হাজার টাকা দিয়েছি। করোনার কারণে তিনি খুব অসহায়ভাবে দিনযাপন করছিলেন। তাই খাদ্য সহায়তা চেয়ে ৩৩৩-এ কল করেছিলেন। কিন্তু কোনও একটি ভুলের কারণে তিনি শাস্তি পেয়েছেন। ফরিদ আহমেদের একটি প্রতিবন্ধী সন্তান রয়েছে। তিনি আসলেই আর্থিকভাবে অস্বচ্ছল। প্রশাসনের উচিত তার জন্য কিছু করা।

csonglap,net

আরও পড়ুন

কৃষকের ধান কেটে দিলেন বৈরাগ ইউপি চেয়ারম্যান

newsdesk

ঈদের জামাত মসজিদে, কোলাকুলি করবেন না : ধর্ম মন্ত্রণালয়

newsdesk

গণপরিবহন শ্রমিকদের প্রতি মানবতার হাত বাড়িয়ে দিন : সুজন

newsdesk
error: Content is protected !!